স্থাপিত: ২০১৯ বৃহস্পতিবার, 30 জুলাই 2026 শেরপুর, বাংলাদেশ

শেরপুরে নেশা চক্রের খপ্পরে অচেতন গরু ব্যবসায়ীকে উদ্ধার: দুই দিন পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিল ‘আজকের তারুণ্য’

শেরপুরে নেশা চক্রের খপ্পরে অচেতন গরু ব্যবসায়ীকে উদ্ধার: দুই দিন পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিল ‘আজকের তারুণ্য’

গরুর হাটে যাওয়ার পথে নেশা চক্রের খপ্পরে পড়ে অচেতন হয়ে পড়া টাঙ্গাইলের এক গরু ব্যবসায়ীকে উদ্ধার, চিকিৎসা, পরিচয় শনাক্ত এবং স্বজনদের খুঁজে বের করে অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে শেরপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আজকের তারুণ্য’। সংগঠনটির মানবিক এ উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার গৌরান গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় গরু ব্যবসায়ী মজনু মিয়া (৪০) গরুর হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে নেশা চক্রের সদস্যরা কৌশলে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে শেরপুর সদর পুলিশ লাইন সংলগ্ন নবীনগর গোরস্থানের সামনে ফেলে রেখে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ‘আজকের তারুণ্য’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সংগঠনের সদস্যরা তার চিকিৎসা, ওষুধ সংগ্রহ এবং সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির কোনো পরিচয় না থাকায় তার স্বজনদের সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি ও পরিচয় জানতে চেয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করে ‘আজকের তারুণ্য’। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে টাঙ্গাইলে থাকা মজনু মিয়ার স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন এবং সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বুধবার মধ্যরাতে মজনু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান। পরে শেরপুর সদর থানার পুলিশের উপস্থিতিতে ‘আজকের তারুণ্য’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রবিউল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মো. রুবাইয়াত ইসলাম প্লাবন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোলাইমান হোসেন সম্পদ এবং প্রস্ফুটিত শেরপুর সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা দেবাশীষ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মজনু মিয়াকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
প্রায় দুই দিন পর পরিবারের সদস্যদের ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মজনু মিয়া। হাসপাতালেই সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। এ সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় জনগণ, চিকিৎসক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রবিউল ইসলাম রতন বলেন, “অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের অঙ্গীকার। একজন অচেতন ও পরিচয়হীন মানুষকে সুস্থ করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সমাজের মানুষের সহযোগিতা থাকলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নেশা চক্রের অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ‘আজকের তারুণ্য’ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সমাজের অন্যান্য সংগঠনের জন্যও অনুকরণীয়