শেরপুরের নকলা উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে বাল্যবিবাহ। এসময় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে কনের বাবাকে সাত হাজার টাকা জরিমানা এবং ভবিষ্যতে মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কায়দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নকলা উপজেলার জালালপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের হান্নান ও রাহিলা বেগম (ছদ্মনাম) দম্পতির ছেলে রেদোয়ানের (ছদ্মনাম) সাথে কায়দা গ্রামের হানিফ ও হেনা বেগম (ছদ্মনাম) দম্পতির মেয়ে আলো আক্তারের (ছদ্মনাম) বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাল্যবিবাহের খবরটি স্থানীয় লোকজন প্রশাসনকে জানায়। পরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় ঐসহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানির নেতৃত্বে কনের বাড়িতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সেইসাথে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বরপক্ষের ছাপানো দাওয়াতপত্র অনুযায়ী, শনিবার (২৫ জুলাই) জালালপুর মন্ডলপাড়ায় বরের বাড়িতে ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। তবে তার আগেই শুক্রবার কনের বাড়িতে বিয়ে সম্পন্নের প্রস্তুতি চলাকালে প্রশাসনের অভিযানে পুরো আয়োজন ভেস্তে যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে কনের বাবাকে সাত হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। পাশাপাশি মেয়ের আইনসম্মত বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে আর বিয়ে দেবেন না মর্মে তাঁর কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।
অভিযানকালে নকলা থানা পুলিশের সদস্যরা, নকলা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পক্ষে সাদিকুল ইসলাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি বলেন, বাল্যবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া মাত্রই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের আইনসম্মত বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।