মিজানুর রহমান, ঝিনাইগাতী, শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে সংরক্ষণ, মৃৎশিল্পীদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিউটি অব ঝিনাইগাতী।
সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মৃৎশিল্পী কারিগর সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে উপজেলার ১৪টি মৃৎশিল্পী কারিগর পরিবারকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সম্প্রতি উপজেলার আপন শিক্ষা পরিবার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।
সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক ও পরিচালক আমিনুল ইসলাম শামিম।
সঞ্চালনা করেন হাসান মাহমুদ (রনি)।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব শফিউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সরোয়ার আলম।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ,
ঝিনাইগাতী আদর্শ ডিগ্রী মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম,
প্রভাষক মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক,
হেলাল উদ্দিন,
হাফেজ মাওলানা ফয়জুল হাসান,
আপন শিক্ষা পরিবারের প্রধান শিক্ষক রহমত আলীসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তাদের মূল্যবান অভিমত:
বক্তারা বলেন, মৃৎশিল্প বাংলাদেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে মাটির তৈজসপত্র, কলসি, হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহৃত হতো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এ শিল্প আজ সংকটে পড়েছে। তাই এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
আপন শিক্ষা পরিবারের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী বলেন,
“মৃৎশিল্পীরা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সামাজিক স্বীকৃতি দিতে পারলে এ শিল্প নতুনভাবে বিকশিত হবে।”
বিউটি অব ঝিনাইগাতীর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রুবেল সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের আয়োজন মৃৎশিল্পীদের উৎসাহিত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত করবে।
সম্মাননা প্রদান:
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৪টি মৃৎশিল্পী কারিগর পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সম্মানিত কারিগররা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই স্বীকৃতি তাদের কাজে নতুন উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে।
অনুষ্ঠানে বিউটি অব ঝিনাইগাতীর নেতৃবৃন্দ, আপন শিক্ষা পরিবারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিউটি অব ঝিনাইগাতীর এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক।