স্থাপিত: ২০১৯ বুধবার, 06 মে 2026 শেরপুর, বাংলাদেশ

প্রশংসনীয় ভূমিকায় জুনে ব্যারাকে ফিরছেন সেনাবাহিনী

প্রশংসনীয় ভূমিকায় জুনে ব্যারাকে ফিরছেন সেনাবাহিনী

 

ছবি: সংগৃহীত


দীর্ঘ প্রায় দুই বছর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশংসনীয় দায়িত্ব পালন শেষে আগামি জুনে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন মাঠপর্যায়ে কর্মরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সৈনিকরা। সবকিছু ঠিক থাকলে মাঠে থাকা সেনা সদস্যরা আগামি ৬ জুন থেকে তাদের ব্যারাকে ফিরতে শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা। সে হিসাবে একই দায়িত্ব পালনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা নৌবাহিনীর সদস্যরা তাদের ব্যাপারে ফিরে যাবেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ‘কোর কমিটির’ আলোচনায় এমন সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামায়। পরে সে বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষ করে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সে সময়ে চরম বিপর্যস্ত অবস্থার মুখে পড়লে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী মূল ভরসার জায়গায় চলে আসে। সামাজিক অপরাধের ব্যাপক বিস্তার ঘটলে দেশের বিভিন্নস্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প বা কার্যালয় স্থাপন করে অপরাধ দমন ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেনা ও নৌবাহিনী। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে আসার পর এখন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে ‘অফিসিয়ালি’ ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সশস্ত্র বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব পালন শুরু করে। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য সংখ্যাও কমানো হতে থাকে। সংখ্যা কমে আসলেও মাঠে এখনো দেশের বিভিন্নস্থানে সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন নিরলসভাবে মাঠে দায়িত্ব পালনের পর এখন ব্যারাকে ফিরতে ব্যাকুল হয়ে আছেন সৈনিকরা। সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলেই সম্পূর্ণভাবে তারা ব্যারাকে ফিরে যাবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সিদ্ধান্তের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা গেলেও অফিসিয়ালি বাহিনীগুলো বুধবার (৬ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত কোনো চিঠি তারা পাননি বলে দায়িত্বশীলরা।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারা দেশের চাঁদাবাজি, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এ সভায় মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের তথ্যমতে, আগামি ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠপর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রথম দিকে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হবে দূরবর্তী জেলা থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে মাঠপর্যায়ে এখনো ১৫ থেকে ১৭ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনীর বেশকিছু সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তবে বর্তমানে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ সক্রিয় বা সক্ষমতা অর্জন করেছে কি না, বা তারা যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করছে কি না, সে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।