দেবাশীষ সাহা রায়, বিশেষ প্রতিনিধি
শেরপুরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার শেরপুর পৌরসভার নবীনগর এলাকার রোয়া বিলে অনুষ্ঠিত এই মেলা দেখতে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো মানুষ।
শুক্রবার বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী মুড়কি-মুড়ি, মোয়া, নিমকি, গজা, কলাই, বাদাম, কটকটি, তিলের খাজাসহ নানা ধরনের খাবার, প্লাস্টিক ও মাটির তৈরি শিশুদের বিভিন্ন খেলনা, নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী এবং গৃহস্থালী পণ্যের পসরা বসেছে।
এছাড়া ঘোড়দৌড়, সাইকেল রেস, গাঙ্গি খেলা ও নারীদের মিউজিক্যাল চেয়ারসহ গ্রামীণ বিভিন্ন খেলা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এই মেলায় ঘোড়দৌড় ও গাঙ্গি খেলা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই খেলা দেখতে অনেক মানুষ ভিড় জমায়। মেলাকে ঘিরে শেরপুর শহরের নবীনগরসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আয়োজকদের বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, প্রায় শত বছরেরও বেশি সময় ধরে নবীনগর এলাকায় এ মেলা হয়ে আসছে। প্রতিবছর বোরো আবাদের আগেই মেলার আয়োজন করা হয়।
এদিকে মেলা উপলক্ষে আশেপাশে অবস্থিত স্থানীয় গ্রামবাসীর ঘরে ঘরে চলে নতুন আমন ধানের চালে পিঠা-পায়েশ খাওয়ার উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে প্রতি বাড়িতেই দূর-দূরান্তের আত্মীয়রা ছুটে আসে পিঠা খেতে এবং মেলা দেখতে।
শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পৌষ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাই বাবা-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই প্রতিবছর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। পরের বছর কমিটি গঠন করে আরও বড় আকারে দুই দিনব্যাপী মেলা আয়োজন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি পারভেজ আহম্মেদ জানান, প্রায় দুইশত বছর ধরে চলে আসা এ মেলার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য প্রতি বছরই আয়োজন করা হয়ে থাকে। আগামীতেও এটা ধরে রাখার প্রত্যয় মেলা উদযাপন কমিটির।





