দেবাশীষ সাহা রায়, বিশেষ প্রতিনিধি
শেরপুরের সদর উপজেলায় অবৈধভাবে পাখি শিকারের অভিযোগে এক যুবককে এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা হক এ জরিমানা করেন।
অর্থ দণ্ডপ্রাপ্ত শিকারি আনসার আলী শেখহাটি গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামে একজন শিকারি ফাঁদ দিয়ে পাখি শিকার করছেন-এমন তথ্য পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে চারটি ফাঁদ ও দুটি শালিকসহ শিকারি আনসার আলীকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর ৩৮ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন প্রদান করেন ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ সময় স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার জন্য লিফলেট বিতরণ করা হয়।
পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড ন্যাচার (সোয়ান), শেরপুরের সদস্য সচিব জাহিদুল হক মনির বলেন, পাখি শিকারিরা বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে বিভিন্ন পাখি নিধন করছেন। এতে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে ফসলি জমিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ বাড়ছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা। প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরকেও পাখি নিধনের কুফল সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরতে হবে।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা হক বলেন, পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।






